Published: 2015-03-23 Views: 1294

বাংলাদেশে বাইসাইকেল চালানোর সুবিধা এবং অসুবিধাসমুহ


Advantages-and-Disadvantages-of-Bicycle-riding-in-Bangladesh

বর্তমানে বাইসাইকেলের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন কিছু বলার নাই। উন্নত বিশ্বের অন্যতম দুই পরাশক্তি চীন এবং জাপান বাইসাইকেলকে তাদের প্রধান বাহন হিসেবে এখন ব্যবহার করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশেও বাইসাইকেল এখন সর্বজনের কাছে একটি আদর্শ বাহন হিসেবে গন্য হচ্ছে কারণ এই বাহনের সুবিধা অনেক আর এই সমস্ত কারনেই দিনকে দিন বাংলাদেশে বাইসাইকেলের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে।

নিম্নে বাংলাদেশে বাইসাইকেলের সুবিধা এবং অসুবিধাসমুহ তুলে ধরা হলঃ

সুবিধাসমুহ
১। বাইসাইকেল হল বর্তমান সময়ের সবচেয়ে পরিবেশ বান্ধন একটি বাহন এবং এটি শুধু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে নয় বরং বিশ্বের প্রতিটি দেশেই একইভাবে গন্য। ধোয়া নির্গত করে এমন যেকোন বাহন পরিবেশের জন্যে ক্ষতিকর কারণ প্রতিটা যানবাহনের ধোয়ার সাথে থাকে কার্বন ডাই অক্সাইড যা পরিবেশের জন্যে ব্যাপক ক্ষতিকর। আর এই দিক বিবেচনা করেই সাইকেল চালানো পরিবেশের জন্যে অনেক ভাল।
২। সাইকেল চালানোটা স্ব্যস্থের জন্যে অনেক অনেক উপকারী আর এইদিকে এত বেশি জোর দেওয়ার কারণ হল আমাদের মধ্যে খুব কম ব্যক্তিই আছেন যারা প্রতিনিয়ত নিজেদের স্ব্যস্থের প্রতি যত্ন নেওয়ার সময় পান। কিন্তু একজন নিয়মিত সাইকেল চালক এই সুবিধাটা মনের অযান্তেই পেয়ে যান। কোন ধরনের সময় ব্যয় করে আলাদাভাবে ব্যায়াম না করেই একজন সাইক্লিস্ট তাদের শরীর ফিট রাখতে পারেন।
৩। বাইসাইকেল হল এমন একটা বাহন যা খুব সহজেই আমাদের বাজেটের মধ্যে চলে আসে। আমাদের দেশে সাধারণ একটা সাইকেলের দাম মাত্র ৩০০০ থেকে ৪০০০ এর মধ্যে আর এই সাইকেলগুলা যথেস্টই আরামদায়ক আমাদের শরীরকে ফিট এবং ফ্রেশ রাখার জন্যে। আবার আপনি চাইলে আপনার বাজেট অনুপাতে আরও ভাল সাইকেলও কিনতে পারেন কিন্তু বলে রাখা ভাল যে সাইকেলের মানে হল ভাল সাইকেলের দামটাও অনেক সময় আপনার চোখ কপালে তুলতে পারে।
৪। মূলত বড় যানবাহনের আধিক্যের কারনেই ট্রাফিক জ্যাম সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। কিন্তু আমাদের সবারই জানা যে বাইসাইকেল কোনভাবেই বড় জায়গা নেয় না হোক সেটা রাস্তায় কিংবা পার্কিং প্লেসে। আর এই কারনেই বাইসাইকেল নিয়ে রাস্তায় চলা ফেরা করাটা অন্যান্য বাওহনের থেকে অনেক সহজ। কারণ জ্যাম এড়িয়ে আপনি খুব সহজেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারেন আকারে ছোট হওয়ার কারণে।
৫। একটা সাইকেলকে ঠিকমত মেইনটাইন করার জন্যে আপনাকে অনেক বড় আকারের অর্থ খরচ করতে হবে না যা আপনাকে করতেই হবে যদি আপনি ইঞ্জিন চালিত যেকোন যান ব্যবহার করা শুরু করেন। অন্যদিকে সাইকেল এমন এক বাহন যার কোন সমস্যা আপনি বুঝতে পারলে অনেক সময় আপনি তা নিজেই ঠিক করতে পারবেন। সবসময় আপনাকে মেকানিকের সরনাপন্ন হতে হবে না। মেকানিকের কাছে নিয়ে যাওয়া লাগবে না ঠিক তা না তবে খুবই কদাচিৎ।
৬। সঠিক নিরাপত্তা দিয়ে তৈরি যানবাহনের মধ্যে বাইসাইকেল সেরাদের মধ্যে অন্যতম। আপনি বাইসাইকেল অন্য যেকোন বাহনের থেকেও অনেক আরামে ও নিশ্চিন্তে চালাতে পারবেন কারণ এতে চাইলেও আপনি এমন গতি তুলতে পারবেন না যা আপনার নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাবে। আবার এই বাহনের চলার জন্যে খুব সামান্য জায়গা লাগে এবং আপনার প্রয়োজন মত আপনি নিয়ন্ত্রন করতে পারেন। আপনি যদি দ্রুত যেতে চান তবে দ্রুত প্যাডেল পুশ করেন আবার যদি মনে করেন গতি বেশি হয়ে যাচ্ছে তবে ধীরে প্যাডেল পুশ করেন। খুবই সাধারণ একটা হিসাব।

সমস্যা সমুহ
১। এই বাহনে মূলত সময়ের একটা বাজে প্রভাব রয়েছে এবং তা হল গরমের সময় এবং বর্ষায়। তীব্র গরমের সময় আপনি কোনভাবেই আরামে সাইকেল চালাতে পারবেন না। আবার বৃষ্টির দিনেও আপনি সাইকেল নিয়ে বের হতে পারবেন হয়ত কিন্তু আরামের কথা চিন্তা না করাই ভাল হবে। কারণ রাস্তায় পানি তো থাকবেই আবার যদি কাচা রাস্তা হয় তবে তো আপনাকে সাইকেল মাথায় তুলে ঘরে ফিরতে হবে একই সাথে যদি আপনি মনে করেন সাইকেল চালিয়েই ঘরে ফিরবেন তবে আপনি স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রন পাবেন না।
২। সামাজিক মর্যাদার সাথে সাইকেল অনেক সময় মিলে না তার কারণ এতে অতিরঞ্জিত কোন কিছু নাই যা মোটরসাইকেল বা প্রাইভেট কারে রয়েছে। আর এই কারনেই উচ্চ শ্রেনির লোকজন বাইসাইকেলের সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে সমস্যায় পড়ে।
৩। বাইসাইকেলে আপনি চাইলেও ইঞ্জিনচালিত বাহনের মত গতি তুলতে পারবেন না এমনকি যখন আপনি তীব্রভাবে চেষ্টা করছেন উচ্চ গতি তোলার জন্যে তখনও এই বাহন তার নির্দিষ্ট সীমার বাইরে আপনাকে গতি দিতে পারবে না। মূলত সাইকেলের জনপ্রিয়তা না বাড়ার অন্যতম একটি কারণ হল এর অতিমাত্রায় নির্দিষ্ট গতি।
৪। যেহেতু বাইসাইকেল হল রাস্তার অন্যতম ক্ষূদ্র যান আর এই কারনেই অন্যান্য বড় বাহনের সাথে মানিয়ে চলা একটু কঠিন হয়ে যায় যা সকল সাওক্লিস্টদের কাছে বিরক্তিকর। রকই সাথে বড় যানবাহনের গতির সাথেও তাল মেলানো সম্ভব হয় না। এই সমস্ত কারণে বাইসাইকেল হাইওয়ে রোডে চালানো তেমন নিরাপদ না।

উপরোক্ত সকল তথ্যের আলোকে আমরা বলতে পারি যে বাইসাইকেল চালানোর সময় আপনার পুর্ন মনযোগ পথের ওপর রাখতে হবে নতুবা দুর্ঘঠনা এড়ানো সম্ভবপর হবে না।