Published: 2015-04-17 Views: 714

রাতে সাইকেল চালানো


Bicycle-ride-in-the-night

বলা বাহুল্য যে দিনে সাইকেল চালানো এবং রাতে চালানোটা কোনভাবেই এক ব্যাপার না। একথা বলাই যায় যে রাতের বেলা এবং দিনের বেলা ঠিক যেন আলো আর অন্ধকারের পার্থক্য একই রকম পার্থক্য সাইকেল চালানোর ক্ষেত্রেও। হতে পারে রাতে সাইকেল চালানোটা আপনার কাছে একটা সখ আবার প্রয়োজনের তাগিদেও আপনি রাতে সাইকেল নিয়ে বের হতেই পারেন। কিন্তু আত্মসুরক্ষার চেয়ে বড় প্রস্তুতি আর অন্যকিছু হতে পারে না এর মূল কারণ হল রাতের বেলা আপনি দিনের মত আলো পাবেন না।

আপনি বিশ্বাস করেন আর নাই ই করেন সাইকেল চালানোর জন্যে রাতের চেয়ে আর ভাল কোন সময় হতেই পারে না। কিছু মানুষ আছে যারা রাতে সাইকেল চালায় তাদের সখের কথা উল্লেখ করে আবার কিছু মানুষ আছে যারা রাতের ব্যাপারটা এড়িয়ে যায় আন্ধকারের বিপদের কথা চিন্তা করে। সাইক্লিং হল সবচেয়ে ভাল একটা ব্যায়াম দেহ ও মন প্রশান্ত রাখার জন্যে আর এই কারনেই যারা দিনে কোনভাবেই সময় বের করতে পারেন না তাদের রাতে সাইকেল চালানো ছাড়া অন্য কোন উপায়ও থাকে না।

রাতে সাইক্লিং এর সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন ব্যাপার হল নিজের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিজে করে নেওয়া। একটী পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে রাস্তায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘঠনার প্রায় ৩ ভাগের ২ দুই ভাগই রাতে অথবা পরিষ্কারভাবে দেখতে না পাওয়াতে। এই রিপোর্ট থেকে এই কথা পরিষ্কার যে আপনি যখনই রাতে সাইকেল নিয়ে বের হবেন আপনাকে মন প্রস্তুতি নিয়ে বের হতে হবে যেন রাস্তায় আপনার অবস্থান পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। এবং এর কারণ হল রাস্তায় আপনার অবস্থান পরিষ্কার হলেই কেবল দুর্ঘঠনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে আপনি কিভাবে আপনার প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন এবং প্রকৃতপক্ষে আপনার কিরকম নিরাপত্তা দরকার?

সবচেয়ে ভাল উপায় হল রাতে সাইকেল চালানোর সময় যতটা পারেন নিজেকে দৃশ্যমান করার চেষ্টা করুন। এই ক্ষেত্রে রিফ্লেক্টর আপনাকে অনেক সাহায্য করবে যার দ্বারা আপনি নিজে এবং আপনার সাইকেলকেও সহজেই অন্যান্য যানবাহনের সামনে পরিষ্কারভাবে দেখাতে পারবেন। মুলত রিফ্লেক্টিং পোশাক এবং সাইকেলের রিফ্লেক্টিং বস্তুগুলাগুলাকে সবসময় দেখে শুনে পরিচ্ছন্ন রাখলে আপনি অনেকটাই নিরাপদ।

লাইট এবং লেজার লাইট অন্যান্য যানবাহনের কাছে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার অন্যতম সহজ মাধ্যম। এর দ্বারা পথের কতটুকু অংশে আপনার অবস্থান তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। আমরা সবাই জানি যে মেগা শহরে সাইকেল চালানোটা অনেক কষ্টের। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে সাইকেল চলানোটা অনেকটাই সহজ শহরের চেয়ে। সবচেয়ে বড় কথা হল আমরা যাখানেই সাইকেল চালায় না কেন রাতের অন্ধকার সব জায়গাতেই সমান। আর এই কারনেই আমাদের সব জায়গাতেও সমান নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। একটু আগে আমরা লেজার লাইট নিয়ে কথা বলছিলাম, বিশ্বাস করেন আর নাই ই করেন এর থেকে ভাল নিরাপত্তা তথা দৃশ্যমান হউয়ার সুবিধা আপনি অন্যকিছু থেকে পাবেন না আপনি যেখানেই থাকুন না কেন। যদি বলেন এই লেজার লাইট কোথায় পাব? এখনকার সময়ে যেকোন ধরনের সাইক্লিং ম্যাটেরিয়্যালস নিকটস্থ সাইকেলের শো রুমেই পাওয়া যায়।

সাইক্লিস্টরা বেশিরভাগ সময়েই রাস্তার একটা বিশেষ অংশ খেয়াল করে চলে এবং এই অংশটা খেয়াল করেই চলা উচিত আপনি রাতে সাইকেল চালান আর দিনে। একই সাথে একজন সাইক্লিস্টকে সকল ধরনের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে এর মধ্যে বোঝার মত আছে সামনের যানভাহনের থামার সংকেত, থামার চিহ্ন ইত্যাদি। এ কথা মনে রাখতে হবে যে রাতে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন ব্যাপার হল রাস্তায় আপনার অবস্থান পরিষ্কার করা আর এই কারনেই রাস্তার সে সমস্ত জায়গা বুঝে আপনার চলা উচিত যেখানে আলো বেশি এবং প্রাইভেট কার গুলো যেন আপনাকে দেখতে পায়। কখনোই লেনের ভেতরে এবং বাইরে যাওয়া আশা করবেন না। সোজাসুজি ভাবে যাওয়আর চেষ্টা করবেন তাতে করে হঠাত করে অন্য যানবাহনের সামনা সামনি হউয়ার সুযোগ কম থাকে। যদি দেখেন অনেক বেশি পরিমানে বড় যানবাহন আপনার আশপাশে তবে আপনার বাম দিক দিয়ে প্রাইভেট কার হুলাকে পাশ হতে দেন। একই লাইনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বা পার্ক করা গাড়িফুলাকে খেয়াল করে চলবেন। যদি একেবেকে চলেন তবে হুট করে অন্য গাড়ির সামনে পরতে পারেন এবং সেই ড্রাইভার হুট করে তার গাড়ি নাও থামাতে পারে যার দরুন কি হতে পারে তা আপনি খুব ভাল করেই বোঝেন। লেনের মাঝামাঝি থাকলে প্রাইভেট কারগুলা আপনাকে খুব ভাল করে দেখতে পারবে এবং ঠিক সময়মত আপনাকে পাশ কাটিয়ে বের হতেও পারবে।
আপনি যখন আপনার সাইকেল চালাচ্ছেন মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকুন এমন কিছুর জন্যে যা সচরাচর ঘটে না। এগুলার মধ্যে রয়েছে পশু, কিছু মানুষ রাস্তা পারাপাররত এবং কিছু মানুষ যারা রাতের আধারে চলাচল করে থাকে। একটা প্রবাদ আছে এমন ধরনের যা হল “প্রতিনিয়তই কিছু খারাপ মানুষ আছে যারা সবসময় আপনাকে বিপদে ফেলতে চায়” এবং এই সমস্যাটা শহর অঞ্চলে খুবই প্রকট একই সাথে স্বাভাবিক। আপনি যদি নিজে থেকেই টের পান যে এই রাস্তাটা আপনার জন্যে নিরাপদ হবে তবে আপনার উচিত হবে বিকল্প হিসেবে সে রাস্তা ব্যবহার করা। এভাবে হয়ত আপনি ব্যস্ত রাস্তা এড়িয়ে সহজ রাস্তাও বের করতে পারবেন।

আমাদের পরামর্শ থাকবে যে, যে কোন ধরনের সাইক্লিং প্রস্তুতির সাথে হউয়া উচিত সেটা দিনে হোক আর রাতে হোক। আপনি আপনার প্রস্তুতি যতটা সম্ভব এগিয়ে নিবেন। কারণ আমার আপনার সবারই একথা জানা যে একটি দুর্ঘঠনার জন্যে আপনাকে সারাজীবন হা হুতাশ করতে হতে পারে।
হ্যাপি সাইক্লিং।