Published: 2015-04-19 Views: 4059

বাইসাইকেল কেনার কিছু টিপস


Tips-for-buy-your-Bicycle


আপনি যখন আপনার নিজের জন্যে সাইকেল কেনার কথা চিন্তা করবেন তখন আপনার মনে অনেক ধরনের প্রশ্ন ঘুরাপাক খেতে থাকবে। কারণ আমরা সকলেই জানি যে সাইকেলের ডিজাইন এবং কোয়ালিটি মানুষের বা একজন রাইডারের বয়স, অবস্থান, চালানোর রাস্তা সাথে অর্থনৈতিক অবস্থাও জড়িত থাকে। মুলত এই সকল ব্যাপারগুলা আপনাকে বিভিন্নভাবে সিদ্ধান্তহীনতায় ফেলে দেবে যার দরুন সহজ ব্যাপারও কঠিন মনে হতে পারে। বর্তমান সময়ে সাইকেল হল আমাদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপুর্ন একটি অংশ তার কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে যে এটা হল অতি সহজ একটি যোগাযোগ মাধ্যম। বিশেষত আধুনিক সময়ের তরুনরা সাইকেলকে খুব পছন্দ করে এবং এর বিশেষ কোন কারণ নাই বরং সাইকেলের ফ্লেক্সিবিলিটি এবং পথে চলার সক্ষমতা একে ভিন্নতা দিয়েছে যার কারনে সাইকেল তরুনদের কাছে এত জনপ্রিয়।

প্রথমত আমাদের কানতে হবে যে সাইকেল কতরকমের হয়। যার মানে হল বাজারে করো ধরনের সাইকেল প্রচলিত আছে। সাধারনত আপনি বাজারে যে সকল সাইকেল দেখতে পাবেন টা হল রোড সাইকেল, মাউন্টেন বাইক, ট্যুরিং বাইক, রেসিং বাইক, লেডিস বাইক ইত্যাদি। এখন প্রশ্ন হল এই সকল সাইকেলের মধ্যে আপনার জন্যে কোনটা প্রযোজ্য? এটা মুলত নির্ভর করবে নিম্নের কিছু প্রশ্নের উপরঃ

আপনার বাজেট
এইটাই হল প্রথম ব্যাপার যখন আপনি কোন সাইকেল কিনতে যাচ্ছেন। আপনাকে মনে রাখতে হবে যে একটা ভাল সাইকেলের ভাল দাম দিতে হবে। শুধুমাত্র যে ভালর কারনেই ভাল দাম ব্যাপারটা টা না বরং সেই সাইকেলের সার্ভিস্টাও ভাল। আপনি যদি কার্বন ফাইবারের সাইকেল কিনতে চান তবে আপনাকে অবশ্যই ভাল একটা বাজেট করতে হবে। একই কথা অন্যান্য সাইকেলের ক্ষেত্রেও। এটা নির্ভর করবে শক্তি এবং সামর্থ্যের ওপর এবং আপনার বাজেটের কথা চিন্তা করে আপনাকে সাইকেল পছন্দ করতে হবে।

আপনার আশপাশের এলাকা
সবকিছুর মধ্যে এটি অন্যতম একটা গুরুত্বপুর্ন ব্যাপার কারণ, আপনি মনে আপনি একটা রেসিং সাইকেল কিনলেন কিচতু আপনাএ বা আপনার আশপাশের এলাকায় রেস করার মত কোন জায়গায় নাই তখন ব্যাপারটা অনেক হাস্যকর হয়ে যেতে পারে আপনার জন্যে। কাজেই যে সাইকেলই আপনি নেন না কেন একটু চিন্তা করে নিবেন।

আপনার বয়স
বয়সের সাথে মানান রেখে আপনার সাইকেলের ডিজাইন পছন্দ করা উচিত কারণ আপনি একজন প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে বাচ্চাদের সাইকেল চালাতে পারবেন না আবার বৃদ্ধ বয়সে রেসিং সাইকেল চালানোটাও দৃষ্টিকটু মনে হবে।

আপনার পেশা
এর মানে হল আপনার জীবন জীবিকার জন্যে আপনি কোন পেশায় নিয়োজিত? আপনার পেশা আপনার পছন্দের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। আআপনি যদি একজন পেশাদার বা সখের বসে সাইকেল না চালান তবে আপনাকে সাধাআরন সাইকেল যা শুধুমাত্র যোগাযোগ রক্ষার জন্যে ব্যবহার করা হয় এমন সাইকেল আপনাকে পছন্দ করতে হবে। বাজারে এমন ধরনের অনেক সাইকেল আপনি দেখতে পাবেন।

পুরুষ/মহিলা
এইটা ব্যাপারটা অন্যতম একটি গুরুত্বপুর্ন বিষয় আপনার সাইকেল পছন্দ করার ক্ষেত্রে। আপনি যদি এখন পুরুষ মানুষ হউন তাইলে লেডিস বাইক কোনভাবেই আপনার সাথে মানানসই হবে না কারণ পুরুষের সাইকেল এবং মেয়েদের সাইকেলের মধ্যে অনেক খানি তফাৎ আছে যা চোখে পড়ার মত।

উপরের আলোচ্য বিষয়গুলা একটু ভালভাবে খেয়াল করবেন যখন আপনি সাইকেল কেনার কথা চিন্তা করছেন। এখন আমরা কিছু প্রশ্ন এবং উত্তর নিয়ে আলোচনা করবো যা আপনাকে সাইকেলের দোকানে ডিল করতে সহযোগিতা করবে।

আমার জন্যে কোন ব্রান্ড সবচেয়ে ভাল হবে
এই প্রশ্নের আমাদের কাছে খুব তিক্ত একটা উত্তর আছে এবং টা হল “কোন ব্রান্ডই না”। আপনাকে সবসময় মাথায় রাখতে হবে যে আপনি কোন ব্রান্ড কিনছেন না বরং আপনি একটা সাইকেল কিনতে যাচ্ছেন যেটা আপনার সাথে মানাতে হবে। তাই আপনাকে এমন একটা সাইকেল পছন্দ করতে হবে যা আপনার সাথে মানায় সাথে আরামদায়ক এবং এর দামটা আপনার সাধ্যের মধ্যেই।

আমি কি কোন ছাড় পেতে পারি?
আপনি পেতে পারেন আবার নাও পেতে পারেন। সাইকেল হল অনেকটা প্রাইভেট কারের মত কারণ কোম্পানি প্রতি বছর যথাসম্ভব তাদের ডিজাইনে পরিবর্তন নিয়ে আসে। আপনি হয়ত কিছু ছাড় পেতে পারেন গতবছরের অবিক্রিত কিছু ডিজাইনের ওপর যদি কপাল আপনার সাথে থাকে। সবচেয়ে ভাল হয় যদি আপনি ছাড় নিয়ে চিন্তা না করেন কারণ ছাড়ের পন্য সবসময় ভাল হয় না ার এই জন্যেই সবচেয়ে ভাল হবে ছাড় নিয়ে চিন্তা না করা। আবার অন্যদিক দিয়ে একবার ভেবে দেকাহ যায় তা হল, গরমের দিনে সাইকেলের দোকানে বেচাকেনা কম থাকে আর এই সময়ে দোকানিরা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য বিভিন্ন রকমের ভিন্ন কিছু চেষ্টা করে বিশেষত সীমিত লাভে তাদের পন্য বিক্রির চেষ্টা করাটা অন্যতম। আপনি চাইলে সে সময় দোকানে গিয়ে কথা বলে দেখতে পারেন।

আমি কি কথার বা তর্কের মাধ্যমে কোন ছাড় পেতে পারি
মুলত সাইকেলের মুল্য প্রস্তুতকারী কোম্পানির দ্বারা নির্ধারিত হয়ে থাকে যার মধ্যে বিবেচনায় থাকে প্রস্তুত খরচ, পরিবহন খরচ, ডিস্ট্রিবিউটরদের লভ্যাংশ এবং এর সাথে আরও অনেক সরকারী খরচসমুহ। তারা সবসময়ই চায় ক্রেতারা যেন সহজেই এবং সুলভে সাইকেল কিনতে পারে। তারা কখনই তাদের পন্যের মুল্যের দ্বারা একজন ক্রেতাকে লজ্জায় ফেলতে চান না। আর এই কারনেই আমরা বলব যে দাম নিয়ে খুব বেশি তর্কে না জড়াতে কারণ আপনি জানেন না আপনার সামনের সাইকেলটা আপনার সামনে উপস্থিত করতে কতরকমের খরচ হয়েছে আবার প্রস্তুতকারক কোম্পানীর খরচের ধারনাও আপনার নাই। এই সমস্ত ব্যাপারগুলা মাথায় রেখে আপনার উচিত হবে সরাসরি জিজ্ঞেস করা যে আপনার জন্যে তারা কতটুকু ছাড় দিতে পারবে। আবার একই সাথে আপনাকে মাথায় রাখতে হবে যে বর্তমান ব্যবসা পুরাপুরি প্রতিযোগীতার ওপর কাজেই আপনি যে দোকানে যাবেন তারা চাইবে না তাদের একজন ক্রেতা অন্য দোকানে চলে যাক তাই আপনার উচিত হবে না দাম কমানোর জন্যে দোকানির সাথে তর্কে জড়ানো।

একটা কথা মাথায় রাখবেন, আপনি যত চিন্তা করবেন আপনার মনে তত বেশি প্রশ্ন আসবে। তাই আপনি আপনার সিদ্ধান্ত নেন সাইকেল দোকানির সাথে পরামর্শ করে তারা আপনাকে সহযোগিতা করার জন্যে সর্বদা প্রস্তুত।

সাইকেল চালানোর সময় নিরাপত্তার কথা সর্বদায় আগে মাথায় রাখবেন, সময়ের চেয়ে জীবনের মুল্য অনেক বেশি।

হ্যাপি সাইক্লিং।